মোঃ হাফিজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা
শ্যামনগরে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে সংগ্রহ করা পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও বিক্রির সংকটে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, মৌসুমি ব্যবসায়ী, মাদরাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ। যথাযথ ক্রেতা ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে হাজারো চামড়া নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কোরবানিকৃত গরু, ছাগল ও খাসির চামড়া সংগ্রহ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। তবে বাজারে ক্রেতার অভাব ও দাম না পাওয়ায় অধিকাংশ চামড়া অবিক্রিত থেকে যায়।
ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে সংগ্রহ করা চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলছেন, আবার কেউ কেউ নদী ও খালপাড়ে ফেলে দিচ্ছেন। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার চামড়ার বাজার সবচেয়ে দুর্বল।
আড়তদাররা খুব কম দামে চামড়া কিনতে চাইলেও পরিবহন ব্যয়, লবণের দাম ও সংরক্ষণ জটিলতার কারণে তারা লোকসানের আশঙ্কায় চামড়া কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাদরাসা ও এতিমখানা। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেই চামড়া বিক্রির অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যয় নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু এবার বিক্রি না হওয়ায় তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
স্থানীয় এক মাদরাসা শিক্ষক জানান, “সারাদিন চেষ্টা করেও কোনো ক্রেতা পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত চামড়া সংরক্ষণ করতে না পেরে অনেকটা বাধ্য হয়েই নষ্ট করতে হয়েছে।”
এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঈদের আগে চামড়া সংরক্ষণ ও বিক্রির বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের ঘাটতির কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।